Saturday, January 26, 2013

চার সেপ্টেম্বর দুইহাজারবারো।

অনেকগুলো ওষুধ কিনেছি আজ। সবমিলিয়ে আমার ওষুধের সংখ্যা এখন ষোল। কোনটা কখন খাবো ঠিকঠাক জানিনা। যখন যেটা মনে হচ্ছে খাচ্চি। বলতে গেলে ম্যাসাকার অবস'া মোনার সাথে আজ অনেক কথা বলেছি। ভাল লেগেছে। মোনা বলেছে, সে আমাকে অনেক ভালবাসে। আমিও বলতে পারতাম। রাত দুটোআটাশ। ভাত খাবো। আবার ওষুধ খাবো। তারপর ঘুমাবো। এঘরে বেলা করে ঘুমানো যায় না, কাঁচের জানালা দিয়ে আলো আসে। জানালায় দীর্ঘপর্দা আঁটবো। ক্ষণিক আগে একটা কবিতা লিখলাম। কবিতাটি খুব ভালো লেগেছে আমার। আমার ধারণা পাঠক হিসেবে আমি ভালোধরণের। 

নিম্নপক্ষনামের এই কবিতাটি এমন-

কিছু অশ্লীল বিষয়ে আমি সবসময় জড়িয়ে থাকি।
এই আজকেই কোচিংয়ে পড়তে আসা
গোলাপি মেয়েটির দিকে অফিসের জানালা
থেকে তাকালাম অনেকক্ষণ।
মুখ দেখবার পর বুকে তাকিয়ে দেখি গোলাপ
ছাড়া আরো কিছু ফুল গোলাপি হয়।
একবার ইচ্ছে হলো ওকে বলে ফেলি
জলপ্রপাতে সাঁতারের কথা- একবার
ইচ্ছে হলো চেয়ে বসি মন। 
আমার মধুচন্দ্রিমার দুদিন আগেও জোৎস্নাকে
প্রেমিকা ভাবতে শুরু করেছিলাম। একরাতে
কি জবরদসি- করে ওকে বিছানায় নিলাম।
রোদ বৃষ্টি জোনাকির কথা বলতে মনে হয়
আরো একহাজার বছর আগে থেকেই এরা
আমার অধরা প্রেমিকা। অধরা প্রেমিকার
অধরে শোবার স্বপ্ন আমিও দেখছি
কয়েক জন্ম থেকে।
নিরন্ন এই আমি একদিন দুর্গার বুক দেখে
মাতাল হয়েছি, নইলে মন্ডপের সামনে
আড়াইঘণ্টা দাঁড়িয়ে আর কি দেখেছি
এই পূঁজোমাসে।
খুব ভুল করে একদিন ঈশ্বরী এসে পড়েছিল
আমার সীমানায়। তারপর জন্মাতে শুরু করলো
এক একটি অসভ্য গোষ্ঠি।

তিন সেপ্টেম্বর দুইহাজারবারো।

অপার রাত এখন। অন- আমার জন্য। এমন রাতগুলো প্রতিদিন আমাকে অসীম দেখাচ্ছে। ঠিক যা দেখতে চাইছি, তাই। এখন প্রবল সুখী এক ভীষণ মানুষ আমি। একটা পঁয়ত্রিশ। শাদা রংয়ের এই হাতঘড়িটা মোনা কিনে দিয়েছে এবার। আগেরটাও সে দিয়েছিল। নষ্ট হবার পরও কাঁচ ছাড়া, কাঁটা ছাড়া পরেছিলাম আমি। ম্যানিব্যাগও মোনা কিনে দিতে চেয়েছিল। দেখার পর ওর ধারনা ম্যানিব্যাগ নষ্ট হয়েছে। না, তেমনটি নয়। ম্যানিব্যাগ ঠিকঠাক।
অফিস থেকে ফিরলাম বারোটার আগে। ব্রাজিলের আপেল কিনেছিলাম। খেলাম। তারপর একটি কলা। গ্যাষ্ট্রিকের সিরাপ। জ্বরের ট্যাবলেট খেয়েছিলাম অফিসে বসে। জ্বর এসেছিল। তরকারী থেকে টক গন্ধ বেরুচ্ছে। গরম করে নিলাম। সাথে দুপুরের করা কৈ মাছের ভূনা। ভূনা এখনো খাওয়াই হয়নি। খেতে পারছি না। অর্ধেক প্লেট খেতেই ক্লান- হয়ে পড়ছি। কাল থেকে অবস'া আমার। ঢাকা থেকে কাল ফিরলাম। সকালেই জ্বর এসেছিল। সেইসাথে ডিসেন্ট্রি। উদ্ভট ঝামেলা। অবস'া জন্য বাস ধরতে চার ঘণ্টা লেট হয়েছে। ঢাকায় যা খেয়েছি, আমার কাছে তা অযোগ্য। খুব কষ্ট নিয়ে ফিরে এসেছি। এখনো অসুস'্ আছি। সাবেক ম্যাচমেটের এক বন্ধু এসেছিল। তার নাম জানা হয়নি। আটাশ আগস্টের পত্রিকা নিতে এসেছিল। তার নামে কি এক ওয়ারেন্ট বেরিয়েছে, এমন খবর শুনে সে এসেছিল। একটু পর সে জানালো এমন কোন খবর সে খুঁজে পায়নি। তারকিছুটা পর সিগ্রেটের সাথে ক্যানাবিস টানলাম, তাতে মাঝামাঝি পর্যায়ের ইচ্ছেডানায় ভর করতে পারলাম। এটা আমার অপূর্ব এককাল।
সকালটা খুব দ্রুতই শুরু হয়েছিল আজ। কিছুটা পান-াভাত খেয়েছি তার কিছুটা পর। কাপড় ধুয়েছি। মাছ পরিস্কার করেছি। কাঁচাকলালাউআলুর কৈ ঝোলের পাশাপাশি কিছুটা পেঁয়াজভূনা করেছি। খেতে পারিনা। খেতে খেতে ক্লান- হই। প্রকাশকের বাসায় মিটিংয়ে যাবার পর শরীর ভেঙ্গে পড়লো। আর দুজন সুস' হয়ে উঠছে। অনেকগুলো রোগ থাকায় আমি পারছি না। মোনার সাথে কথাও বললাম বেশ কিছুক্ষণ। তারপর ঘুমালাম। কাল রাতে ফোন করে নতুন এক ছেলেকে নিউজে জয়েন করতে বলেছিলাম। তাকে অনেকবিষয় জানালাম। বললাম, নিউজের কাজ চমৎকার এডভাঞ্চার। যখন স্যারের সামনে বসবে তোমাকে ভীতসন্ত্রস- করে তুলবে। স্যার লম্বা সময় বগুড়ায় আসবেন না। আজ সকাল শুরু হয়েছিল বাবার ফোন পেয়ে। উনি জানতে চেয়েছিলেন, গতকালের চেয়ে সুস'বোধ করছি কি না। বললেন, যেটা খেতে পারো কিনো খেয়ো। আমি আচ্ছা বললাম।